ঢাকা২৩ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আন্তর্জাতিক
  3. আরো
  4. এক্সক্লুসিভ
  5. খেলাধুলা
  6. জাতীয়
  7. দেশজুড়ে
  8. প্রেস বিজ্ঞপ্তি
  9. বিনোদন
  10. মতামত
  11. লাইফ স্টাইল
  12. শিক্ষাঙ্গন
  13. সম্পাদকীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অক্টোবরের ভয়াবহতা কী আসন্ন

admin
অক্টোবর ২১, ২০২৩ ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে বিএনপি জোটের ‘সরকার পতনের’ হুমকি-ধামকি ততই বেড়ে যাচ্ছে। বিএনপি ও তার শরীকরা আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকেই আন্দোলন করে আসছে। তবে গত প্রায় দেড় বছর থেকে সরকার পতনের মৌসুমভিত্তিক কর্মসূটি পালন করছে। ইদ, পূজা, গ্রীষ্ম বর্ষা ইত্যাদি ধর্মীয় উৎসব ও মৌসুম পরিবর্তনের পর সরকার পতনের আল্টিমেটামগুলি ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণের স্বার্থ জড়িত না থাকায় আন্দোলনে গণসম্পৃত্কতা সৃষ্টি হয়নি। বর্তমান সরকারের কিছু দোষ-ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও জনগণ বিএনপিকে আওয়ামী লীগের বিকল্প মনে করে না। তাই ক্ষমতার মসনদ দখলের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা সৃষ্টি হয়নি। একের পর এক আল্টিমেটাম ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিক কারণে হতাশার জন্ম নিয়েছে। বিএনপি মাঝে মাঝে হাক-ডাক দিয়ে ঝিমিয়ে পড়া নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা করে। অদ্য ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত জনসভা থেকে শেষবারের মত পূঁজার ছুটি পর্যন্ত সময় দিয়ে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। এর মধ্যে সরকার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে সরকার পতনের মহাযাত্রা শুরু হবে। কয়েকদিন পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে ফাইনাল আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে যা জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে। শঙ্কার কারণ হলো বিএনপির অতীত ইতিহাস। জনগণ মনে করে, বিএনপির আন্দোলন মানেই সহিংসতা। অহিংস ও অসহযোগ আন্দোলন এবং গণসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে গণ-অভ্যূত্থানের কোনো দৃষ্টান্ত বিএনপির নেই। যে পদ্ধতিতে রাজনৈতিক ভূগোলে বিএনপির আবির্ভাব সে পথেই তাদের রাজনীতি ও আন্দোলন চলমনান রয়েছে। কানাডার ফেডারেল কোর্ট কয়েকবার বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে মার্কিন আদালতের নথিতেও বিএনপি ‘টায়ার থ্রি/আনডেসিকনেটেড সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে (কালের কণ্ঠ ৩ আগস্ট ২০২৩)। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির আশ্রয় কেন্দ্র হওয়ায় বিএনপি একটি প্রতিশোধ পরায়ন সংগঠনে পরিণত হয়েছে। বিএনপি-জামাত জোট প্রতিশোধ পরায়ণতা থেকে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করেও ভিন্নমতের মানুষের ওপর তান্ডবলীলা চালিয়েছিল। সে সময় হিন্দু জনগোষ্ঠী ‘আর কখনো ভোট কেন্দ্রে যাবো না’ এম ঘোষণা দিয়েও নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ ও লুটপাটের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। আবার ২০১৪ সালে নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে জনসমর্থন না পেয়ে হতাশা থেকে সাধারণ মানুষের ওপর ভয়াবহ তা-বলীলা চালিয়েছিল।

২০০১ সালের ১লা অক্টোবর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংঘটিত সহিংসতা এবং ‘টার্গেট কিলিং’ বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। বিএনপি জামাত জোটের এ অমোচীয় কলঙ্ক তাদের নিষ্ঠুরতার চিত্রই স্মরণ করিয়ে দেয় বারংবার। তাদের ঐ বিভৎস চেহারা জাতি প্রত্যক্ষ করেছিল ২০১৪ সালের নির্বাচনেও। যদিও তারা সে নির্বাচনে অংশ নেয়নি। নির্বাচন বানচাল করতে নিরীহ-নিরপরাধ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল। সেসময় তিনমাসব্যাপী চালানো তান্ডবে তাজা মানুষের মাংসের পোড়া গন্ধে ঢাকা মেডিকেলের বার্ণ ইউনিটে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হতো। পেট্রল বোমায় আক্রান্ত বাসযাত্রী অথবা সাধারণ পথচারির জীবন বাঁচানোর করুণ আর্তি আজও মানুষের মনোজগতকে ভারাক্রান্ত করে তোলে। তা-বের ভয়াবহতা থেকে বেঁচে যাওয়া অনেকে এখনো দুঃসহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তারা কী আবারও স্বমূর্তিতে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে, সেই ভাবনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে। নির্বাচন এলে তাদের তা-ব যেনো জাতির নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা প্রায় দেড় বছর ধরে চূড়ান্ত আন্দোলনের দিনক্ষণ ঠিক করতে করতে অক্টোবর মাসে এসে ঠেকেছে। ভয়ের কারণ হলো ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভ করার পরও পুরো অক্টোবর মাস জুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ বিরোধী মতের মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তারা। ভয়াবহ অক্টোবরের দুঃসহ স্মৃতি জাতি আজও ভুলতে পারেনি। জাতীয় দৈনিক ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সেসব নির্মমতার করুণ চিত্র রয়ে গেছে।

নির্বাচন এলেই এদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সবচেয়ে বেশি চাপে থাকে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে আক্রমণ হয়েছিল তার ভয়াবহতা ও প্রকৃতি ছিল ১৯৭১ সালের অনুরূপ। ইউএসসিআর-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে সে বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ২০ হাজার হিন্দু ভারতে পাড়ি জমিয়েছিল। অভ্যন্তরীণভাবে প্রায় ২ লক্ষ হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। অনেকে ক্ষুণ, ধর্ষণের শিকার হয়েছির। অনেকের ক্ষেতের ফসল ক্ষতিসাধন, বাড়ি-ঘরে হামলা লুটপাট ও আগুণ দেওয়া হয়েছিল। গবাদি পশু সহায় সম্বল লুটপাটের শিকার হয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় হিন্দু জনগোষ্ঠীকে দেশত্যাগে বাধ্য করার জন্য ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এদের পূর্বসূরীরা একই পন্থা বেছে নিয়েছিল। ২০০১ সালের পর সিরাগঞ্জের অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়স্ক হিন্দু তরুণী পূর্ণিমাকে বিএনপি-জামাতীদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, রাজশাহীর পুঠিয়ায় মাহিমা ধর্ষণ, বাগের হাটের তরুণীদের ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়ত, মীরসরাই, সীতাক-ু, খুলনা, নরসিংদী, গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল, ঈশ্বরদীসহ দেশের বহুস্থানের হিন্দু জনগোষ্ঠীর গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলা-ভাংচুরের শিকার হওয়া, ভয়ে হিন্দু নারীদের শাখািিসঁদুর খুলে ফেলার যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল তা ছিল ৭১ তা-বকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিএনপির সরকারের পতনের সর্বশেষ আল্টিমেটাম এবং ২৮ অক্টোবর মহানসমাবেশ থেকে সরকার পতনের ‘মহাযাত্রার’ ডাক নাগরিকদের মনে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জ ফকরুল ইসলাম আলমগীর ‘নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। নইলে জনতাই ক্ষমতা দখল করবে’ বলে যে হুমকি দিয়েছেন তা রাজনীতির আকাশে অশনী সংকেত বলে অনেকে মনে করছেন।

 

 

 

অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রহিম

প্রাধ্যক্ষ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।